সাডেন ইনফ্যাণ্ট ডেথ সিন্ড্রোম (SIDS) বা শিশুর আকস্মিক মৃ’ত্যু

সাডেন ইনফ্যাণ্ট ডেথ সিন্ড্রোম (SIDS) বা সিডস  ১২ মাস এবং তার থেকে কম বয়েসি শিশুদের জন্য  ভয়ঙ্কর একটি বিষয়।

কোন পূর্ব রোগ লক্ষণ বা অসুস্থতা ছাড়া ঘুমানোর সময় এই বয়েসি শিশুর মৃত্যু সিডস নামে পরিচিত। ২০১৪ সালের এক পরিসংখ্যান অনুসারে আমেরিকায় সিডস এর হার ৩৪%। অর্থাৎ এই এক বছরে যত শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে শতকরা ৩৪ জন শিশুর, যাদের বয়স ০-১২ মাস তারা কোন অসুস্থতা ছাড়াই ঘুমানোর সময় মারা গেছে।যুক্তরাষ্ট্রে সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম (সিডস) এবং হঠাৎ দমবন্ধ বা কোনো কারণে গলায় চাপ লাগার মতো কারণসহ প্রতিবছর ঘুমসংক্রান্ত কারণে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটে।

সিডস এর প্রত্যেক ক্ষেত্রে সঠিক কারণ জানা যায় না। এই কারনেই অভিবাবকদের জন্য এই সিন্ড্রোম বেশ রহস্যজনক এবং ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে।কোন ধরনের পূর্ব লক্ষন ছাড়াই এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা বেশী দেখা যায় ২-৪ মাস বয়সী বাচ্চার ক্ষেত্রে। এ ধরনের মৃত্যুকে অনেকে কট ডেথ বা ক্রিব ডেথ ও বলে থাকেন কারণ কটে বা ক্রিবে ঘুমানো অবস্থায় বাচ্চাদের বেশীরভাগ সময় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে এটি ভুল ধারনা কারন অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে বাচ্চারা যেখানেই ঘুমাক না কেন, এ ধরনের অবস্থা ঘটতে পারে।

সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম কেন হয়?

এর কোন সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে বেশ কিছু শারীরিক এবং ঘুম সংক্রান্ত বিষয়কে এর কারণ হিসেবে গবেষকরা এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করেছেন। তবে এসব বিষয়গুলো সব বাচ্চার ক্ষেত্রে একই রকম নাও হতে পারে।

শারীরিক সমস্যাঃ

কিছু কিছু বাচ্চা ব্রেইনের ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে। এসব বাচ্চাদের বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ব্রেইনের যে অংশ তার শ্বাসপ্রশ্বাস, এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠা নিয়ন্ত্রন করে তা ঠিকভাবে গঠিত হয়না। ফলে তা ঠিকমত কাজ করতে পারেনা। এসব বাচ্চাদের সিডস এর ঝুঁকি বেশী থাকে।

অনেক বাচ্চা প্রি-ম্যাচিউর হওয়ার কারণে বা অন্য কোন কারণে কম ওজন নিয়ে জন্মাতে পারে। এসব বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও তার ব্রেইনের ওই অংশটি পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ার কারণে তার শ্বাসপ্রশ্বাস ও হার্টরেট নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা।

কোন কোন বাচ্চার শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন থাকতে পারে যার হলে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে।

ঘুম সংক্রান্ত বিষয়ঃ

বাচ্চার ঘুমের জন্য বা শোয়ানোর জন্য কি ধরনের বিছানা বা বালিশ ব্যাবহার করা হচ্ছে এবং তার সাথে বাচ্চার শারীরিক সমস্যার মিলিত কারণে সিডস এর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

বাচ্চাকে যদি পেটের উপর ভর দিয়ে বা পাশ ফিরিয়ে শোয়ানো হয় তবে বাচ্চার নিঃশ্বাস নিতে বেশী কষ্ট হয়। বাচ্চাকে যদি নরম বিছানায় বা গদির উপর শোয়ানো হয় এবং বাচ্চা যদি উপুড় হয়ে থাকে তবে বাচ্চার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

যদিও বাচ্চা বাবা মার সাথে একই রুমে ঘুমালে সিডস এর ঝুঁকি কমে যায় কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে একই বিছানায় শুলে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়াও বাচ্চা ঘুমানোর সময় তার বেশী গরম লাগলেও সিডস এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আরও কিছু কিছু বিষয়কে সিডস এর ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়। যেমন-

  • মেয়ে বাচ্চার তুলনায় ছেলে বাচ্চার সিডস এর ঝুঁকি বেশী থাকে।
  • পরিবারে এ ধরনের পূর্বের কোন ঘটনা থাকলে তা আবার হতে পারে।
  • যেসব বাচ্চারা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়।
  • প্রি-ম্যাচিউর বা কম ওজনের বাচ্চাদের এর ঝুঁকি বেশী থাকে।

গর্ভাবস্থায় মায়ের কারনেও বাচ্চার সিডস এর ঝুঁকি বাড়তে পারে-

  • মায়ের বয়স ২০ বছরের নিচে হলে।
  • মায়ের ধূমপানের অভ্যাস থাকলে।
  • ড্রাগ বা এলকোহলে আসক্তি থাকলে।
  • গর্ভকালীন যত্ন ঠিকমত নেয়া না হলে।

কখন সিডস বেশী হয়?

বাচ্চারা সিডস এ বেশী আক্রান্ত হয় যখন তারা ঘুমিয়ে থাকে বা মনে করা হয় তারা ঘুমিয়ে আছে। এটা সাধারনত রাতে বেশী দেখা যায়, তবে দিনের যেকোনো সময়ও তা হতে পারে। এটা বাচ্চার বিছানায় হতে পারে এমনকি বাবা মায়ের কোলে ঘুমানোর সময় ও হতে পারে।

শীতকালে সিডস বেশী দেখা যায়। এর কারণ হতে পারে শীতকালীন ইনফেকশন। এর আরেকটি কারণ হতে পারে শীতকালে বাবা মা বাচ্চাদের অতিরিক্ত কাপড় জড়িয়ে রাখেন বা রাতে ঘুমানোর সময় রুমের হিটার চালু রাখেন যার ফলে বাচ্চার বেশী গরম লাগতে পারে।

সিডস এর ঝুঁকি কিভাবে কমানো যায়?

নিশ্চিত ভাবে সিডস এর মোকাবেলা করা হয়ত সম্ভব না তবে কিছু কিছু বিষয় ফলো করে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। আমেরিকান অ্যাকাডেমী অব পেডিয়াট্রিক্স এর পরামর্শকৃত বিষয়গুলো ফলো করে বাচ্চার সিডস এবং অন্যান্য ঘুম সংক্রান্ত মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায়।

বাচ্চাকে চিৎ করে শোয়ানো

বিশেষজ্ঞরা বলেন, উপুড় করে শোয়ানোর চেয়ে চিত করে শোয়ানোর কারণে শিশুদের হঠাৎ মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে যায়। যেমন ১৯৯২ সালে এক লাখ শিশুর মধ্যে ১২০টি শিশুর মৃত্যু হতো। ২০০১ সালে এ সংখ্যা ৫৬ জনে নেমে আসে। এক দশকে এ মৃত্যুর হার ৫৩ শতাংশে কমেছে।

বাচ্চা যদি উপুড় হয়ে শোয় তবে তার বেশী গরম লাগতে পারে, শ্বাস প্রশ্বাস বাধাগ্রস্থ হতে পারে, যে শ্বাসটা যে ফেলছে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে সে আবার তাই গ্রহন করে যাতে অক্সিজেনের পরিমান কম থাকে।

বাচ্চাকে পাশ ফিরিয়ে শোয়ানোও উচিত নয় কারণ এতে বাচ্চা খুব সহজেই উপুড় হয়ে যেতে পারে।  উপুড় করে বা এক পাশে কাত করে শোয়ালে শিশুর নরম ফুসফুস এ চাপ পড়ে যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

তবে শিশু নিজে থেকে পাশ ফিরে শুতে সক্ষম হলে ভয় পাবার কিছু নেই। কারণ এ সময় ফুসফুস এ চাপ পড়লে শিশুরা নিজেরাই অবস্থান পরিবর্তন করে নেয়।

নিরাপদ বিছানা

বাচ্চাকে শক্ত, সমান বিছানায় রাখুন। সাধারণত আমরা ১-১২ মাস বয়েসি শিশুদের বিছানার আসে পাশে নরম খেলনা পুতুল রাখি। রাখার কারণ শিশুর কান্না থামানো হোক আর যাই হোক অবশ্যই শিশু ঘুমানোর সময় সেগুলো সরিয়ে ফেলুন। বাচ্চার থেকে বড় আকারের খেলনা পুতুল শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুর বিছানায় বালিশ ও রাখা উচিত নয়।

বিছানায় নরম ম্যাট্রেস ব্যাবহার করবেন না। নরম কুশন বা ম্যাট্রেসে বাচ্চার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাচ্চাকে পড়ানোর জন্য কম্বল বা কাথা ব্যাবহার করলে তা তার নাকের উপর চলে আসার সম্ভাবনা থাকে তাই সাবধান থাকতে হবে। শীতকালে বাচ্চা ঘুমানোর সময় স্লীপ স্যাক ব্যাবহার করতে পারেন। এটা একধরণের স্লীভলেস কম্বল যা বাচ্চাকে পরিয়ে রাখা যায়।

কখনো শিশুকে সোফা, কোচ বা গদিওয়ালা চেয়ারে রাখা যাবে না। একা বা কারও সঙ্গে ঘুমন্ত অবস্থায় রাখা যাবে না। কারণ এসব জায়গা বিপজ্জনক। সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর সময় যদি আপনার ঘুমিয়ে পড়ার বিন্দু পরিমাণ আশঙ্কা থাকে, তাহলে অবশ্যই নিজের বিছানায় শুয়ে দুধ খাওয়ান; সোফা বা গদিওয়ালা চেয়ারে নয়। আর ঘুম থেকে জেগে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে নিজের বিছানায় শুইয়ে দিন।

বাচ্চাকে ক্যারিয়ার, কার সিট, বাউন্সি সিট বা স্ট্রলারে ঘুমাতে দেয়া উচিত নয় বিশেষ করে ৪ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের। কারণ এসবে বাচ্চা ঘুমানোর সময় মাথা বেশী সামনের দিকে হেলে গেলে বাচ্চার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এসবে বাচ্চাকে বসালে খেয়াল রাখতে হবে যাতে বাচ্চার মাথা সোজা থাকে এবং নাকে মুখে কিছু না লাগে।

একই রুমে কিন্তু একই বিছানায় নয়

আমেরিকান অ্যাকাডেমী অব পেডিয়াট্রিক্স এর মতে জন্মের অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত এবং সম্ভব হলে একবছর পর্যন্ত বাচ্চার বাবা মায়ের সাথে একই রুমে ঘুমানো উচিত। তবে একই বিছানায় শোয়ানোর বিপক্ষে তারা। কারণ এতে দুর্ঘটনাবশত বাচ্চার বাবা মায়ের গায়ে লেগে বাচ্চার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাচ্চার বাবা মায়ের বিছানার পাশে আলাদা ক্রিবে রাখা যেতে পারে।

স্লিপিং ব্যাগ এর ব্যাবহার 

ঘুমানোর সময় শিশুকে নিরাপদে রাখতে অনেকে স্লিপিং ব্যাগ ব্যাবহার করেন। এই স্লিপিং ব্যাগ হল আরামদায়ক, উষ্ণ ও নরম এক ধরণের বিছানা যাতে শিশুর হাত ও মাথা বের করার জন্য ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা থাকে। এই ব্যাগ এর গঠন সাধারনত এমন হয় যে ঘুমানোর সময় শিশু পাশ ফিরলে বা উপুড় হয়ে গেলেও কিছুক্ষন পরই ব্যাগ এর অবস্থান আগের মতো হবে এবং শিশুও আবার চিত হয়ে বা পিঠে ভর দিয়ে ঘুমাবে।

আমেরিকান অ্যাকাডেমী অব পেডিয়াট্রিক্স এগুলোর ব্যাবহারের বিরুদ্ধে কারণ এসব জিনিসের ব্যাবহারে বাচ্চার নিরাপত্তার কোন প্রমান পাওয়া যায়নি বরং এগুলোতে যে নরম ম্যাটারিয়াল ব্যাবহার করা হয় তাতে বাচ্চার সাফোকেশনের ঝুঁকি থাকে।

বাচ্চার যাতে বেশী গরম না লাগে

বাচ্চার যাতে বেশী গরম না লাগে তার জন্য বড়দের চাইতে শুধু মাত্র এক লেয়ার কাপড় বেশী ব্যাবহার করুন। বাচ্চার বেশী গরম লাগছে কিনা লক্ষ রাখুন, যেমন- বাচ্চা ঘামছে কিনা, চুল ভিজে গেছে কিনা বা বাচ্চার বুকে হাত দিলে গরম লাগছে কিনা ইত্যাদি।

গর্ভাবস্থায় ধূমপান মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন

প্রায় সব গবেষণাতেই দেখা গেছে গর্ভাবস্থায় মায়ের ধূমপান বা মদ্যপানের কারণে সিডস এর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এগুলো বাচ্চার স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাতেও বাঁধা সৃষ্টি করে। তাই এগুলো থেকে দূরে থাকুন। জন্মের পরও বাচ্চাকে সিগারেটের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখুন।

সময়মত বাচ্চার সব টিকা দিন

সময়মত সবগুলো টিকা দেয়া হলে সিডস এর ঝুঁকি হ্রাস পায়।

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান

বাচ্চাকে যত বেশী বুকের দুধ খাওয়ানো যায় ততই এর ঝুঁকি কমে। যদি বুকে দুধ কম আসে তবে যতটুকু পারা যায় ততটুকুই খাওয়ান। একবারে না খাওয়ানোর চাইতে কিছুটা খাওয়ানোও অনেক উপকারি।

চুষনি ব্যবহার করতে পারেন

গবেষণায় দেখা গেছে যেসব বাচ্চারা চুষনি ব্যাবহার করে তাদের মধ্যে সিডস এর হার অনেক কম। যদি বিশেষজ্ঞরা ঠিক নিশ্চিত নন যে এর সাথে সিডস না হওয়ার কোন সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা। বাচ্চাকে জন্মের প্রথম বছরে ঘুমানোর সময় চুষনি দিতে পারেন।

বাচ্চা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর তার মুখ থেকে চুষনি পরে গেলে তা আবার দেয়ার প্রয়োজন নেই কিংবা বাচ্চা যদি চুষনি নিতে না চায় তবে জোর করারও দরকার নেই।

তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে বুকের দুধ খাওয়ানো বাচ্চারা ভালোভাবে দুধ খাওয়া শুরু করার পর চুষনির ব্যাবহার করা হয়। নয়ত বাচ্চা ঠিকভাবে দুধ খেতে শিখবেনা। বাচ্চার গলায় চুষনি ঝোলানো বা তার কাপড়ের সাথে লাগিয়ে রাখা যাবেনা।

আঁটসাঁট জামা কখনোই নয়

শিশুদের ঘুমানোর সময় আঁটসাঁট পোশাক না পরিয়ে হালকা পোশাক পরানো উচিত। শীতকালে দেখা যায় অনেক অভিভাবক শিশুদের লেপ বা কম্বল বা তোওয়ালে দিয়ে এমন ভাবে ঢেকে দেন যে শিশু নড়া চড়া করতে পারে না, দম বদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাই শিশুদের এমন পোশাক পরান বা এমন ভাবে ঢাকুন যাতে করে তারা আরামে নড়া চড়া করতে পারে।

পরিশিষ্টঃ

আশার কথা হলো, আমাদের দেশে বাচ্চা লালন পালন সংক্রান্ত অনেক বিষয়ের কারণে সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোমে শিশু মৃত্যুর হার অনেক কম। আমাদের দেশে বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানো, বাচ্চার সাথে একই রুমে থাকা, মায়েদের ধূমপানের প্রবনতা কম ইত্যাদি অভ্যাসের কারণে এ সিনড্রোমের প্রকোপ পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।

Source: fairy land

Sharing is caring!

Comments are closed.