Home শিশুর রোগ-ব্যাধি শিশুর প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ : কারণ কী? এবং প্রতিরোধের উপায়!

শিশুর প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ : কারণ কী? এবং প্রতিরোধের উপায়!

2 second read
0
293

স্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ একটি জটিল অবস্থা।

প্রশ্ন : প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণের প্রধান কারণগুলো কী?

উত্তর : প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ বিভিন্ন কারণে হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি খুব বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যায়। কিডনিতে যদি কোনো সংক্রমণ হয়, কিডনিতে যদি টিউবার কলোসিস হয়, কোনো মেলিগনেন্ট বা ক্যানসার অবস্থা হয় অথবা অনেক সময় হাইড্রো নেফ্রোসিস হয়, তখন প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যায়। অনেক সময় ইউরেটারে (যেখান থেকে প্রস্রাব কিডনি থেকে নেমে আসে) যদি কোনো পাথর হয়, সেখানে সমস্যা হতে পারে। প্রস্রাবের থলিতে যদি কোনো সংক্রমণ হয় অথবা প্রস্রাবের থলিতে যদি ক্যানসার হয়, প্রস্রাবের থলিতে যদি পাথর হয়, তাহলেও রক্ত যেতে পারে। অথবা প্রস্রাব যে পথ দিয়ে বের হয়, আমরা যাকে ইউরেথ্রা বলি, সেখানে যদি কোনো সংক্রমণ হয়, ইউরেথ্রাইটিস হয় অথবা সেখানে কোনো পাথর আটকে যায়, পাথর যদি ইউরেথ্রাকে আঘাত করে তাহলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে।

প্রশ্ন : শারীরিক অন্যান্য কোনো কারণ বা রক্ত রোগ থেকে কি প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে?

উত্তর : যেতে পারে। কিছু কিছু রক্তের সমস্যা থাকলে রক্ত যেতে পারে। আমরা একে হেমোফেলিয়া বলি। এসব ক্ষেত্রে খুব কম সময় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরে যদি খুব খারাপ অবস্থা হয়, তখন রক্ত যেতে পারে। প্রথম দিকে যায় না। যখন বেশ খারাপ অবস্থা হয়, তখন যেতে পারে। তবে একে চোখে দেখা যায় না। প্রস্রাবের সঙ্গে যায় ঠিকই, তবে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখলে বেশি দেখা যায়। প্রস্রাবের রং লাল হলে কিছুটা বোঝা যায়।

প্রশ্ন : প্রতিরোধযোগ্য যেগুলো আছে সেগুলো প্রতিরোধে আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর : প্রতিরোধের জন্য একটিই বিষয়, সেটি হলো পর্যাপ্ত পানি  পান করতে হবে। প্রথম কথা হলো মেয়ে যদি হয়, তাহলে তার প্রস্রাবের রাস্তা ভালো করে পরিষ্কার করে রাখবে। যেন তার সংক্রমণটা না হয়। কারণ, মেয়েদের ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তবে মূল কথা হলো বেশি করে পানি পান করতে হবে।

প্রশ্ন : কোন বয়সের জন্য কতটুকু পানি পান করতে হবে?

উত্তর : আমরা যদি বড়দের কথা চিন্তা করি, একটি মানুষের শরীরে সাধারণত পাঁচ লিটার রক্ত থাকে। একটি বড় মানুষ সাধারণত দুই থেকে তিন লিটার পর্যন্ত পানি পান করতে পারে। সেই হিসেবে আমরা যদি একটি বাচ্চার কথা চিন্তা করি, তাহলে তিন লিটার রক্ত আছে। সেই ক্ষেত্রে এক থেকে দেড় লিটার পর্যন্ত পানি পান করতে পারি।

সেটি নির্ভর করবে তার ওজন ও আকৃতির ওপর। একটি মানুষের শরীরে যতটুকু রক্ত আছে, তার সমপরিমাণ পানি কিন্তু কখনো পান করা যাবে না। প্রায় অর্ধেক বা তার থেকে সামান্য বেশি পান করা যেতে পারে। বেশি পানি পান করলে আবার ওয়াটার ইনটক্সিকেশন হয়, সেটিও আবার ক্ষতিকর।

প্রশ্ন : ২০ কেজি ওজনের একটি বাচ্চা আনুমানিক ১০ বছর বয়স- সেই ক্ষেত্রে কতটুকু পানি পান করাতে হবে?

উত্তর : যদি ধরা হয়, তার শরীরে তিন লিটার রক্ত আছে, সেই ক্ষেত্রে হয়তো দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করতে হবে। দেড় লিটার হলে সবচেয়ে ভালো হয়। দুই লিটারের বেশি নয়।

অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজ। বর্তমানে তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত। Source: ntv

Load More Related Articles
Load More In শিশুর রোগ-ব্যাধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

বাচ্চার মুখ থেকে লালা পড়া বন্ধ করার জন্য কি করা যেতে পারে?

প্রথমেই জেনে রাখা ভালো যে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মুখে লালা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। শিশুদের …