Home শিশুর খাদ্য বাচ্চাকে শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করা নিয়ে টেনশন? এই ৬টি টিপস আপনার জন্যই!

বাচ্চাকে শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করা নিয়ে টেনশন? এই ৬টি টিপস আপনার জন্যই!

1 second read
0
2,305

মা হবার পর থেকে আপনার সব চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু হল আপনার বাচ্চা। যে কোন কাজ করার সময় চিন্তা করেন বাবুর কোন ক্ষতি হবে নাতো। সব সময় ভাবেন কি ভাবে নিজের থেকেও তাকে বেশি ভাল রাখা যায়।

আপনার বাবুর বয়স এখন প্রায় ৫ মাস। এখন ভাবছেন আপনার বাচ্চাকে কখন থেকে শক্ত খাবার দেয়া শুরু করবেন। আর কিই বা খাওয়াবেন।

বাচ্চার জন্মের পর প্রথম কয়েকমাস সারভাইভ করার মতো কিছু পুষ্টি সে আপনার গর্ভে থাকা অবস্থায়ই নিয়ে নিয়েছে। তাই প্রথম চার থেকে ছয়মাস অবধি শুধু বুকের দুধই বাচ্চার জন্য যথেষ্ট।

তবে বাচ্চার গ্রোথ শুরু হবার লক্ষণ দেখা গেলেই বাচ্চাকে বুকের দুধের পাশাপাশি সলিড খাবার খাওয়ানো শুরু করতে হবে। তা না হলে বাচ্চার গ্রোথ এবং সুস্থ্যতা – এসবকিছু নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারেন।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানাবো কীভাবে বুঝবেন যে আপনার বেবিকে সলিড খাবার দেয়ার সময় কখন এবং সলিড খাবার খাওয়ানোর কিছু দরকারি টিপস।

১। শক্ত খাবার খাওয়ানোর সময়ঃ আপনার বাচ্চাকে কখন থেকে শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করবেন। আপনার বাচ্চার শরীরের গঠনের বৃদ্ধি এবং চরিত্রের পরিবর্তন দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার বাচ্চাকে কখন শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করবেন। নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল রাখবেনঃ

  • মাথা এবং ঘাড়ের উপর নিয়ন্ত্রণ চলে আসছে, একটু সহায়তা করলে সোজা হয়ে বসতে পারে
  • খাবার প্রতি একটা আগ্রহ চলে আসছে। আপনি হয়ত বাবুকে কোলে নিয়ে আপনার খাবার খাচ্ছেন তখন আপনার প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে।
  • আপনি যে সব খাবার খান ঐ সব খাবার খেতে চাইতে পারে
  • আপনি যখন তাকে খাবার দিতে চাইবেন সাথে সাথে মুখ হা করবে

উপরের লক্ষণ গুলো বিভিন্ন বাচ্চার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়, তবে বেশির ভাগ বাচ্চার মধ্যে বয়সের ৬ মাসের মধ্যে দেখা যায়।

উপদেশঃ আপনার বাচ্চার বয়স যদি প্রায় সাত মাস হয়ে যায় কিন্তু শক্ত খাবার খেতে শুরু না করে তাহলে আপনার উচিৎ হবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা।

২। খাবার টাইমঃ বেশির ভাগ মায়েরা বেশি চিন্তিত থাকে, তাদের বাচ্চাকে কোন সময় শক্ত খাবার খাওয়ানোর জন্য প্রথম চেষ্টা করবেন। আমার মনে হয় আপনিও তার ব্যাতিক্রম নন। সব থেকে ভাল সময় হল যখন আপনার দুইজনেই অনেক হাসি খুসি ভাবে আছেন।

বুকের দুধ খাওয়া শেষ হওয়ার পর দেখবেন আপনার বাচ্চা শক্ত খাবার খাইতে একটু আগ্রহী। এর একমাত্র কারণ হল যখন তার বেশি ক্ষুধা লাগে তখন সে জানে মায়ের দুধই হল সব থেকে তার জন্য ভাল খাবার। তবে দুধ খাওয়ার পরও শক্ত খাবার খাওয়ার মত জায়গা তাদের পেটে থাকে।

বাচ্চাকে সলিড খাওয়ানোর মত যথেষ্ট খিদে পেয়েছে কিনা বোঝার ৩টি লক্ষণ –

  • যখন তাকে খেতে দিতে যাবেন দেখবেন সে অনেক বেশি আগ্রহী
  • আপনি হয়ত নিজে চেয়ারে বসে তাকে খাওয়াচ্ছেন, তখন আপনার বাচ্চা চেষ্টা করবে আপনার কোলে ওঠার। অথবা আপনার বাচ্চা হয়ত কোন উঁচু চেয়ারে বসা তখন সে চেষ্টা করবে আপনার কাছে আসার জন্য।
  • আপনি যখন খাওয়াতে যাবে তখন মুখ হা করে আপনার দিকে ছুটে আসবে।
  • এতো গেল খিদে পেয়েছে কিনা তা বোঝার উপায়। কিন্তু খিদে না পেতেই জোর করে খাওয়ানো যাবে কি? নাহ! তাই বাচ্চার আসলে বেশি খিদে পায়নি তা বোঝা যাবে এই ৪টি লক্ষণ দেখলে –
  • আপনি মুখের কাছে খাবার নিয়ে গেলেন কিন্তু মুখ ঘুরায় নিয়ে গেল।
  • খাওয়া শুরুর সময় তার যে পরিমাণে আগ্রহ ছিল ঐ পরিমাণে আগ্রহ আর নেই।
  • আপনি যখন চামচ নিয়ে মুখের কাছে নিয়ে যাবেন চামচ সরিয়ে soriee দিবে।
  • মুখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারে।

উপদেশঃ আপনার বাচ্চা যখন শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করবে, তখন কত টুকু করে দিবেন? ১-২ দুই চামচ করে দিয়ে শুরু করেন এর পর আপনার বাচ্চার আগ্রহ অনুযায়ী পরিমাণ বাড়াতে থাকেন।

৩। কি ভাবে দিবেনঃ প্রথম দিকে খাওয়ানোর সময় ভর্তা করে, অথবা ছোট ছোট নরম পিস করে খাওয়াতে পারেন। এটি আপনার বাবুর পছন্দ আর সুবিধার উপরে নির্ভর করে।

আপনার বাচ্চার চাহিদার সাথে সাথে খাবারের ধরণ পরিবর্তন করেন। একটা সময় আসবে যখন সে শক্ত খাবারেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে। বেশি বেশি পরিমাণে শক্ত খাবার তার চোয়াল গঠনে সাহায্য করবে যার ফলে দ্রুত কথা বলতে শিখবে। আর স্বাস্থ্য তো ভাল হবেই।

উপদেশঃ সময় এবং ধৈর্য দুইটাই দরকার আপনার বাচ্চার এই নতুন খাবার খাওয়া শিখতে। যদি আপনার বাচ্চা খেতে না চায় তাহলে হাল ছেড়ে না দিয়ে অন্য সময় আবার চেষ্টা করেন। আপনাকে হয়তো অনেক বার চেষ্টা করা লাগতে পারে এই নতুন স্বাদে এবং ধরণের খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে।

৪। কি খাবার দিবেনঃ প্রত্যেকটা নতুন খাবার বাচ্চাদের জন্য নতুন নতুন স্বাদ, তবে আপনার কোন স্পেশাল খাবার রান্না করার দরকার নেই।

আপনি যে কোন ধরনের শক্ত খাবার তাকে খাওয়াতে পারেন। এই যেমন মনে করেন রান্না করা ভাত, রান্না করা সবজি, ভর্তা করা কোন ধরনের ফল। এ ছাড়াও আপনি ডিম, রান্না করা মাছ, মাংসের কিমা, এবং বেশি বেশি সবজি এবং ফল।

খিচুড়ি করে খাওয়াতে পারেন অনেক রকম খাবার একসাথে করে। এইটা এইরকম না যে আপনাকে এক একটা খাবার আলাদা করে খাওয়ানো লাগবে।

বাসায় রান্না করা হয় এমন খাবার দিন এবং অবশ্যই খাবারের মধ্যে বৈচিত্র্য আনুনঃ

  • সবজি – যেমন রান্না করা আলু, গাজর অথবা শিমের বীজ
  • ফল – যেমন কলা, আপেল, তরমুজ
  • আটা, ময়দা, ভাত, পাস্তা
  • যে কোন ধরনের দুগ্ধজাত খাবার
  • ডিম খাওয়াতে পারেন তবে অবশ্যই যেন রান্না করা হয়

এমন খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেন যে খাবার তাকে নিজে নিজে খেতে উৎসাহ দিবে। উপদেশঃ তবে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না, বাচ্চার বয়স ২ বছর হওয়া পর্যন্ত তাকে শক্ত খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন কিন্তু বুকের দুধ কে বাদ দিয়ে নয়।

৫। যদি এ্যালারজি থাকেঃ আপনার পরিবারে যদি কারো খাবারে এ্যালারজি থেকে থাকে তাহলে আপনার বাচ্চারও হতে পারে। যদি বাচ্চার খাবারে এলারজি বোঝা যায় তাহলে কী খেলে এলারজি হচ্ছে তা বোঝার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এলারজি টেস্ট করিয়ে নিতে পারেন।

উপদেশঃ আপনার পরিবারের ইতিহাসে হয়ত এ্যালারজি থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই না যে আপনি ঐ সব খাবার আপনার বাচ্চাকে খাওয়াবেন না। আগে ট্রাই করে দেখুন বাচ্চা খেতে পারছে কিনা।

৬. কি ভাবে শুরু করবেনঃ শক্ত খাবার কীভাবে শুরু করবেন এইটা পরিবার থেকে পরিবারে, বাচ্চা থেকে বাচ্চা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যদি আপনি কনফিউজড হয়ে যান কিভাবে শুরু করবেন তাহলে নিচের টিপস গুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

  • খাওয়ার সময়
  • যখন আপনি এবং আপনার বাচ্চা দুইজনই খুব রিলাক্সড মুডে থাকবেন
  • ভর্তা অথবা ছোট পিস যে ভাবে আপনার ভাল মনে হয়।
  • বাচ্চাকে একটা উঁচু চেয়ার বসান এরপর চামচ দিয়ে খাওয়াতে পারেন। অথবা আপনার নিজের হাতে
  • যদি দেখেন আপনার বাচ্চার আর আগ্রহ নেই অথবা খিদা নেই। তার মানে এখন কার মত যথেষ্ট খাওয়া হয়ে গেছে।
  • বাচ্চাকে আগ্রহী করবেন কি করেঃ
  • খাবারের মধ্যে ভিন্নতা নিয়ে আসেন
  • যে খাবার তার বেশি পছন্দ ঐ গুলো বেশি করে খাওয়ান
  • আপনি নিজে হাতে যখন খাওয়াবেন তখন তার হাতেও একটা চামচ দিয়ে দেন
  • খাওয়ানোর সময় আপনার বাচ্চার সাথে কথা বলুন – এইটা কি খাবার, তার রং, তার স্বাদ, কোথায় এই খাবার হয়, কি ভাবে রান্না করেছেন ইত্যাদি।

আপনার বাচ্চার আগ্রহকে গুরুত্ব দিন উপদেশঃ শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করা মানে কিন্তু শুধু খাওয়ানো না, এইটা সব থেকে উত্তম সময় আপনার বাচ্চার সাথে কথা বলার এবং তার কথা শোনার, ধীরে ধীরে তার সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে তোলার।

আপনার বাচ্চার বয়স যদি ১২ মাস হয়ে যায় তাহলে সে সব ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার গুলো খেতে পারে। তবে যে খাবারগুলো বাইরের তৈরি যেমন কেক, বিস্কিট, চিপস এবং কোন ধরনের ভাজা খাবার আপনার বাচ্চার জন্য ভাল না।

আপনার বাচ্চা হয়ত অনেক ধীরে ধীরে খায়, এইটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। তার খাওয়া শেখা লাগবে তারপর দ্রুত খাওয়া শুরু করবে।

আপনার বাচ্চা খেতে শিখে গেছে কিন্তু দেখলেন খাবার না খেয়ে মুখ থেকে ফেলে দিছে। তার মানে এখন আর খেতে চাচ্ছে না। তখন বরং আপনার বাচ্চার সাথে একটু খেলা করেন। বাচ্চাকে যদি কখন কোন হাইচেয়ারের উপরে বসে খাওয়াতে যান, তাহলে চেয়ারের নিচে কোন খবরের কাগজ অথব প্লাস্টিক রেখে দিতে পারেন। খাওয়া শেষ হলে ফেলে দিলেন।

সর্বশেষ উপদেশঃ প্রথম দিকে বেশি শক্ত খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন যেমন রান্না না করা গাজর। তার পরিবর্তে কুঁচি কুঁচি করে কেটে খেতে দিতে পারেন। আর কখনই সম্পূর্ণ বাদাম, মাছের সাথে ছোট কাটা অথবা মাংসের সাথে ছোট হাড় খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না।

Load More Related Articles
Load More In শিশুর খাদ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

বাচ্চার মুখ থেকে লালা পড়া বন্ধ করার জন্য কি করা যেতে পারে?

প্রথমেই জেনে রাখা ভালো যে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মুখে লালা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। শিশুদের …