বাচ্চার পোলিও রোগের কারন, লক্ষন, ভয়াবহতা ও প্রতিরোধ।

পোলিওমাইলিটিজ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। সচরাচর এটি পোলিও নামেই সর্বাধিক পরিচিত। এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি এ ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে আক্রান্ত হন। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সাময়িক কিংবা স্থায়ীভাবে শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হন ও তার অঙ্গ অবশ বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

পোলিও রোগের কারণ 

  • আক্রান্ত শিশুর মল দ্বারা দূষিত পানি খেলে বা আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে এই রোগ হতে পারে।
  • জীবানুর নামঃ পোলিও ভাইরাস (Polio virus)

পোলিও রোগের লক্ষণ

  • ১-৩ দিন: 
  •    শিশুর সর্দি, কাশি এবং সামান্য জ্বর হয়।
  • ১-৫ দিন:
  •     মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়
  •     জ্বর থাকে
  •  শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়
  •    শিশু দাঁড়াতে চায় না
  •    উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে
  •    দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না
  •    শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

পোলিও রোগের ভয়াবহতা 

শিশুর এক বা একাধিক অঙ্গ অবশ হয়ে  য়ায়। ফলে আক্রান্ত অঙ্গ দিয়ে স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না । আক্রান্ত অঙ্গের মাংসপেশী চিকন হয়ে যায় । শ্বাস প্রশ্বাসের পেশী অবশ হয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে শিশু মারাও যেতে পারে।

পোলিও রোগের প্রতিরোধ

এক মাস পর তিন ডোজ এবং হামের টিকা দেওয়ার সময় আরো একবার অর্থাৎ মোট চার বার পোলিও টিকা শিশুর এক বছর বয়সের ভিতরে খাওয়ানো হলে তা শিশুর দেহে পোলিও রোগ প্রতিরোধ করে। প্রথম ডোজ দেয়ার সবচেয়ে ভালো সময় শিশুর ৬ সপ্তাহ বয়স। যদি কোন শিশু ক্লিনিক বা হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করে তাহলে তাকে জম্মের পর পরই এক ডোজ পোলিও টিকা দিতে হবে। এটাকে অতিরিক্ত ডোজ বলে গণ্য করতে হবে। এবং শিশুর ৬ সপ্তাহ বয়সে থেকে নিয়মিত চার ডোজের সিডিউল শুরু করতে হবে।

Sharing is caring!

Comments are closed.

error: Content is protected !!