১৩ থেকে ২৪ মাসের অবধি বয়সের বাচ্চাদের খাদ্য চার্ট

সন্তানদের জন্য কোন খাদ্য ভাল এই ভাবনাতে মায়েরা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন; বিশেষ করে নতুন যাঁরা মা হয়েছেন তাঁরা। আপনি যেটা ভাবছেন সবসময় সেটাই বাচ্চাদের খাওয়ান যায় না।

১৩ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের কিছু পরিমাণে এমন খাবার খাওয়ান যায় যেগুলি সাধারণভাবে বড়দের। খাদ্যগুলি উচ্চমাত্রায় পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়া দরকার, কেননা আপনার শিশু এখন শারীরিক বৃদ্ধির পর্যায়ে আছে, এবং সুষম বৃদ্ধির ও বিকাশের জন্য তার যথেষ্ট পরিমানে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট আর ভিটামিন দরকার। নিরামিশাষী অভিভাবকদের যত্ন নেওয়া উচিত যাতে শিশুদের খাদ্যে সঠিক প্রোটিনের পরিমাণের থাকে যেহেতু তাদের খাদ্যতালিকাতে মাংস এবং ডিম থাকে না, যেগুলি সমস্ত রকম খাবারের মধ্যে সবথেকে প্রোটিন সমৃদ্ধ।

ছোট্ট বাচ্চাদের জন্য এবং হামাগুড়ি দেওয়ার পর্যায়ে আছে এমন শিশুদের জন্য খাবার পছন্দ করা খুব কঠিন নয়। এর আসল উদ্দেশ্য হল শুরু থেকেই পাঁচটি খাদ্যগুণ সম্পন্ন ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য বাচ্চাদের খেতে শেখানো, যাতে শিশুরা তাদের বৃদ্ধি, বিকাশ এবং শিক্ষা লাভের জন্য জরুরী পুষ্টি পেতে পারে।

পাঁচটি বিভিন্ন খাদ্যগুণ নীচে দেওয়া হলঃ

১। প্রোটিন-যুক্ত খাদ্য

প্রোটিন আপনার শিশুর বৃদ্ধি, পেশীর গঠন এবং বিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যে খাদ্যগুলিতে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন পাওয়া যায় সেগুলি হল মাংস, মাছ, মুরগী, ডিম, বীন, ডাল, মটরশুঁটি, টোফু এবং বাদাম। এই খাদ্যদ্রব্যগুলিতে অন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ দ্রব্য, যেমন লোহা, দস্তা, ভিটামিন-বি১২ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটী আসিডও থাকে।

লোহা আর মাংস এবং তৈলাক্ত মাছ থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটী আসিড বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ আপনার শিশুর মস্তিস্কের বিকাশ এবং শিক্ষার জন্য।

কত পরিমাণ?

  • ১। প্রতি দিনে ২ আউন্স
  • ২। এক আউন্সে থাকবে – ১ পাউন্ড টুকরো করা এবং ভাল করে রান্না করা মাংস, মুরগী বা মাছ, ১টি রান্না করা ডিম, ১/৪ কাপ সেদ্ধ করা বীন থেকে।

২। ফল এবং সব্জী

ফল এবং সব্জী আপনার শিশুকে দেয় শক্তি, ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার এবং জল। এগুলি আপনার শিশুর শরীরকে সব রকম অসুখ থেকে রক্ষা করে।

আপনার শিশুকে প্রতিটি খাবারের সঙ্গে ফল ও সব্জী দেওয়া এবং হালকা খাবার দেবার সময়ও এই খাদ্যগুলি দেওয়ার অভ্যাস করা খুব জরুরী। বাচ্চার জন্য বিভিন্ন রঙের, গঠন ও স্বাদের কাঁচা বা রান্না করা ফল ও সব্জী পছন্দ করুন। ফলের ও সব্জীর গায়ে লাগা নোংরা এবং রাসায়নিক পদার্থ পরিষ্কার করে নিন এবং ফলের খোসাগুলি রেখে দিন, কারণ এই খোসাগুলিতেই বেশীর ভাগ পুষ্টি রয়ে যায়।

কত পরিমাণ?

  • ১। সব্জী – প্রতিদিন মোট ৩ পোর্শান । ১ পোর্শান = ১/৪ থেকে ১/২ কাপ রান্না করা টুকরো সব্জী এবং ১/২ কাপ ১০০% সব্জীর রস।
  • ২। ফল – প্রতিদিন মোট ৩ পোর্শান। ১ পোর্শান= ১/৪ থেকে ১/২ কাপ টুকরো করা, রান্না করা বা প্যাক করা ফল এবং ১/২ কাপ ১০০% ফলের রস। ফলের রস রোজ ৪ থেকে ৬ পাউন্ডের বেশী খাওয়াবেন না।

৩। দুগ্ধজাত খাবার ( ডেয়ারী)

দুধ, চীজ এবং ইয়োগার্ট (দই) উচ্চমাত্রায় প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ হয়, যা শক্তিশালী হাড় এবং দাঁত গঠনের সহায়ক।

যতক্ষণ না আপনার শিশুর বয়স ১২ মাস পূর্ণ হচ্ছে তাদের শুধু মায়ের বুকের দুধ বা শিশু ফর্মুলা দেওয়া উচিত। এর পর তারা সম্পূর্ণ চর্বি-সহ গরুর দুধ খাওয়া শুরু করতে পারে। যেহেতু এই বয়সের বাচ্চারা খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়ে ওঠে এবং এদের প্রচুর পরিমাণে শক্তির চাহিদা থাকে, তাদের দুই বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ চর্বি-সহ দুগ্ধজাত খাবার দেওয়া প্রয়োজন।

কত পরিমাণ?

  • ১। প্রতিদিন মোট ৪ পোর্শান
  • ২। এক পোর্শান = ১/২ কাপ সম্পূর্ণ দুধ; ১ আউন্স চীজ বা ১/২ কাপ ইয়োগার্ট (দই)। যে সমস্ত শিশুর বয়স ২ বছরের কম তাদের সম্পূর্ণ দুধই খাওয়া উচিত।
  • ৩। এই শিশুদের বৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ দুধের বাড়তি ফ্যাট প্রয়োজন। ২ বছরের পর ১% কম ফ্যাটের বা ফ্যাটমুক্ত দুধ দেওয়া শুরু করতে পারেন।

৪। দানা শস্য

দানাশস্যের মধ্যে আছে প্রাতঃরাশের খাদ্যশস্য, রুটি, চাল, পাস্তা, কর্ন এবং অন্যান্য। এই খাবারগুলি আপনার শিশুকে দেবে সেই শক্তি যা তাদের বৃদ্ধি, বিবর্তন এবং শিক্ষার জন্য জরুরী। যে সমস্ত শস্য খাদ্যে কম মাত্রায় গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স আছে যেমন গোটা দানা পাস্তা এবং পাউরুটি, সেগুলি আপনার শিশুকে স্থায়ী শারীরিক ক্ষমতা দেবে এবং তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় সবল রাখবে।

কত পরিমাণ?

  • ১। দানা শস্যঃ প্রতিদিন মোট ৬ পোর্শান
  • ২। এক পোর্শান = ১/২ থেকে ১ স্লাইস পাউরুটি; ১/৪ থেকে ১/২ কাপ রান্না করা খাদ্য শস্য, চাল বা পাস্তা; ১/২ কাপ খাওয়ার জন্য পূর্বপ্রস্তুত খাদ্য শস্য ২টি ছোট সাধারণ ক্র্যাকার; ১/২ ওয়াফেল বা পানকেক; ১/২ টরটিলা, এবং ১/২ হ্যামবার্গার রুটি, রোল, বা ৩ ইঞ্চি বেগেল।

৫। স্নেহ পদার্থ (তেল)

স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকাতে ফ্যাট একটি জরুরী খাদ্য-উপাদান। এই খাদ্য শক্তির ভান্ডার। ফ্যাট শরীরের ত্বকের নীচের রক্ষণমূলক আবরণ নির্মাণ করে।

কত পরিমাণ?

  • ১। প্রতিদিন চা চামচের ৩ চামচ
  • ২। এক চা চামচ (৫ গ্রাম) ফ্যাট = ১ চামচ তরল সব্জী থেকে প্রাপ্ত তেল; এক টেবিল চামচ কম-স্নেহপদার্থ যুক্ত মেয়োনিজ; ১ টেবিল চামচ স্যালাড ড্রেসিং বা ১ চা চামচ ট্রান্স ফ্যাট শুন্য মার্জারিন।
  • ৩। জমা ফ্যাট যেমন মাখন, রেগুলার মার্জারিন, প্যাস্ট্রীর ফ্যাট এবং রান্নায় ব্যবহৃত শক্ত চর্বি – এই পদার্থগুলি খুব কম ব্যবহার করুন।

(টিনিস্টেপ)

Sharing is caring!

Comments are closed.

error: Content is protected !!