গর্ভবতী ও শিশুকে দুধ দানকারী নারীর রোজা রাখা বা না রাখা প্রসঙ্গ!

গর্ভবতী মহিলা কি রমজানে সিয়াম থেকে বিরত থাকতে পারে? গর্ভবতী মহিলার দু অবস্থার যে কোন এক অবস্থা থাকবে। হয়তো সে শক্তিশালী হবে। সিয়ামের কারণে তার কষ্ট হবে না ও গর্ভস্থিত বাচ্চার উপর তার প্রভাব পড়বে না। এমতাবস্থায় তার সিয়াম পালন করতে হবে। আর যদি সে দুর্বল হয়। সিয়াম সে বরদাশত করতে পারবে না বলে মনে হয় তা হলে সে সিয়াম আদায় করবে না। বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে সিয়াম বর্জন করা তার জন্য ওয়াজিব হবে। এমতাবস্থায় তার সিয়াম পালন করতে হবে। আর যদি সে দুর্বল হয়। সিয়াম সে বরদাশত করতে পারবে না বলে মনে হয় তা হলে সে সিয়াম আদায় করবে না। বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে সিয়াম বর্জন করা তার জন্য ওয়াজিব হবে।
বাচ্চা প্রসবের পর সে কাজা আদায় করবে। সিয়াম পালন করলে অনেক সময় বাচ্চাকে দুধ পান করানোর সমস্যা দেখা দেয়। কেননা দুগ্ধ দানকারী মায়ের খাবার- দাবার গ্রহণের প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রীষ্ম কালে যখন দিন বড় হয়ে থাকে। তখন সে সিয়াম বর্জন করতে বাধ্য হয়ে পড়ে। অন্যথায় তার বাচ্চার ক্ষতি হয়ে যাবে।
এমতাবস্থায় আমরা তাকে বলব আপনি সিয়াম থেকে বিরত থাকুন। যখন আপনি সমস্যা- মুক্ত হবেন তখন কাজা আদায় কর নিবেন। কোন কোন আলেম বলেছেন গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী মহিলা সিয়াম থেকে বিরত থাকতে পারেন যখন সিয়ামের কারণে বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হয়, নিজের ক্ষতির কারণে নয়। তাই তার জন্য ওয়াজিব হবে কাজা আদায় করা ও কাফ্ফারা। তবে কাফ্ফারা ঐ ব্যক্তি আদায় করবেন যার দায়িত্বে আছে এ সন্তানের ভরন-পোষণ। কিন্তু বিশুদ্ধ মত হল কাফ্ফারা আদায়ের প্রয়োজন হবে না।
আর যে ব্যক্তি অন্য কাউকে পানি বা আগুন থেকে উদ্ধার করার জন্য সাওম ভঙ্গ করেছেন তার হুকুমও ঐ মহিলার মত যে তার বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কায় সিয়াম থেকে বিরত থাকল অর্থাৎ সে সাওম থেকে বিরত থাকবে ও পরে কাজা আদায় করবে।
উদাহরণ : আপনি দেখলেন একটি ঘরে আগুন লেগেছে। সে ঘরের ভিতর মুসলমানগন আছেন তখন তাদের উদ্ধার করার জন্য সাওম ভঙ্গ করে খাবার গ্রহণ করে শক্তি অর্জন করত তাদের উদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টা চালাবেন। এটা শুধু জায়েয নয় বরং ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।

Comments are closed.