সোনামণির দাঁত ও মাড়ির যত্নে আপনিও কি এই ৫টি ভুল করেন?

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য কোনগুলো এ নিয়ে আপনার আমার মাঝে দ্বিমত হতেই পারে। কিন্তু অন্তত দুটির ব্যাপারে আপনিও আমাদের সাথে একমত হবেন। একটি হল যখন বাচ্চাদের প্রথম দাঁত ওঠে তখন এক দাঁতের হাসি। আরেকটি হল যখন বাচ্চাদের প্রথম দাঁতটি পড়ে যায় তখন ফোকলা দাঁতের হাসি।
তবে এই একদাতের অথবা ফোকলা দাঁতের হাসিই তো আর সব নয়। আপনার বাবুর দাঁতের গঠন সুন্দর এবং সুস্থ হওয়াও চাই।

কিন্তু আমাদের, মানে বাবা-মায়ের খেয়ালের অভাবে অনেক বাচ্চাদেরই দাঁতের গড়ন সহ দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যেমন দাঁত আঁকা বাঁকা হয়ে ওঠা, দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির ইনফেকশন ইত্যাদি।
এর ফলে আপনার সোনামানিক সারাজীবন তো ভোগেই, তার পাশাপাশি তার দাঁতের জন্য হাসিটাও কেমন মলিন হয়ে যায়।

তাই আমাদের আজকের এই আর্টিকেল এ জানাব কেন ছোটবেলা থেকেই কিছু বাচ্চাদের দাঁত ও মাড়ির সমস্যা দেখা দেয় এবং এগুলো প্রতিরোধ-প্রতিকারের উপায়গুলো।

(১) দাঁত ওঠার আগে থেকেই মাড়ির যত্ন না নেয়া

জানি, হয়তো ভাবছেন দাঁত ওঠার আগেই মাড়ির যত্ন করার প্রয়োজন কি। হয়তো আপনি জানেন না, যে সব শিশুই গর্ভ থেকেই ১০ জোড়া দাঁত নিয়ে জন্মায়! এই দাঁতগুলো মাড়ির নিচে আড়াল থাকে মাত্র।

নবজাতকরা ১০ জোড়া দাঁত নিয়েই জন্ম নেয়, তবে

এগুলো তার মাড়ির নিচে আড়াল পড়ে থাকে।

নবজাতকদের মাড়ি নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে ইনফেকশন হতে পারে, এছাড়া মাড়িতে আঠালো প্লাক জমে যেতে পারে যা পরবর্তিতে দাঁত ওঠার পর তাকেও আক্রমণ করবে।

আপনার করনীয়

নিয়মিত বাবুর মাড়ি পরিষ্কার করুন, বিশেষত খাবার পর। নাহ! এর জন্য টুথপেস্ট বা ব্রাশ কিছুই লাগবেনা।পরিষ্কার নরম কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে ওর মাড়ি আলতো করে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। এতে করে আপনার বাবুর মাড়ি ভাল থাকার পাশাপাশি মুখ পরিস্কার করার অভ্যাসও গড়ে উঠবে।

(২) শিশুর দুধ-দাঁত ওঠার সময় থেকেই ব্রাশ শুরু না করা

‘এগুলো তো দুধ দাঁত, পড়েই যাবে। তাই এগুলো নষ্ট হলেও ক্ষতি নেই’ – এই ভুল ধারণাটি বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই আছে। শিশুর দুধ দাঁত হচ্ছে তার বড় দাঁত ওঠার জায়গা। আজকে দুধদাঁত ক্ষতিগ্রস্থ হলে পরবর্তীতে আসল দাঁত উঠতে অথবা ওঠার পরেও নানান ঝামেলা দেখা দেবে।

আপনার করনীয়

দুধদাঁত ওঠার সময় থেকেই আপনার বাবুর দাঁত ব্রাশ করানো শুরু করুন।দুবেলা ব্রাশ করানোর জন্য একটি নরম এবং ছোট ব্রাশ বেছে নিন। তবে ভুলেও বড়দের টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন না। কারণ বড়দের খাবার অভ্যাস এর কারণে দাঁতে বেশি ময়লা-জীবাণু হয়, তাই বড়দের টুথপেস্ট এ পরিষ্কারক উপাদান বেশি মাত্রায় থাকে, যা বাচ্চাদের জন্য ভাল নয়। তাই ছোটদের দাঁতের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি টুথপেস্ট যেমন মেরিল বেবি জেল টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। তবে যতদিন পর্যন্ত আপনার বাবু কুলি করা না শিখছে ততদিন পর্যন্ত এক-দুটি চালের দানা পরিমাণ পেস্ট নিয়ে বাবুকে ব্রাশ করান। আর প্রতিবার খাবার পর একটু পানি খাওয়ান, যাতে এমনিতেই কিছুটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

(৩) শিশুকে খাওয়ানো অবস্থায় ঘুম পাড়িয়ে ফেলাঃ

অনেকেই শিশুকে বুকের দুধ অথবা ফিডার খাওয়ানো অবস্থায় ঘুম পাড়িয়ে ফেলেন। অথবা ঘুমন্ত অবস্থায় কেঁদে উঠলে তাকে খাইয়ে আবার ঘুম পাড়িয়ে ফেলেন। এতে করে মুখে জমে থাকা বুকের দুধ অথবা ইনফ্যান্ট ফর্মুলা ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণ ঘটায়।

আপনার করনীয়

চেস্টা করুন বাবুকে প্যাসিফাইয়ার (চুষনি) অথবা পানির বোতল মুখে নিয়ে ঘুম পাড়াতে। আর ঘুমের মাঝে খাওয়ানো হলেও ওর মুখের ভেতরটা নরম কাপড় ভিজিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

(৪) সময়মতো দুধদাঁত না ফেলা

নিজে থেকেই দুধদাঁত পড়ে গেছে এমন হয়না। বড় কাউকে সাহায্য করতে হয় বা বাচ্চা নিজেই হয়তো জিভ দিয়ে ঠেলে তুলে ফেলে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চার দাঁত বেশ কদিন ধরেই নড়ছে কিন্তু পড়ছেনা। এ সময়ে কিন্তু তার দুধদাঁতের নিচে আসল দাঁত এসে গেছে, কিন্তু উঠতে পারছেনা। আপনি যদি দেরি করেন তাহলে নিচের দাঁতটি আঁকাবাঁকা হয়ে উঠবে যা আপনার শিশুর মুখের সৌন্দর্যের ক্ষতি করবে।

আপনার করনীয়

দাঁত নড়া শুরু হওয়া মাত্রই তা তুলে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে ডেন্টিস্টের কাছে যান। আর যদি ইতিপূর্বেই এ সমস্যায় আপনার বাবুর দাঁত আঁকা বাঁকা হয়ে থাকে তাহলে ডেন্টিস্ট হয়তো পাশের কোনও দাঁত আগে থেকেই ফেলে দেবার পরামর্শ দিতে পারেন। এতে করে তার দাঁতের শেইপ ঠিক হয়ে আসবে।

(৫) সমস্যায় পড়ার আগে ডেন্টিস্টের কাছে না যাওয়া

ব্যাথা না উঠলে কেউ ডেন্টিস্টের কাছে আসেনা। এই কথাটা আমার ডেন্টিস্ট আমাকে বলেছিলেন। কারণ অবহেলার কারণে আমার দু’টা দাঁত রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট করাতে হয়েছে যা হয়তো আগে থেকে সাবধান হলে হতনা।

আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রেও কি তাই চান? নিশ্চয়ই না।

আপনার করনীয়

তাহলে বছরে অন্তত একবার ডেন্টিস্টের সাথে এপয়েন্টমেন্ট করুন। শুরু করুন আপনার বাবুর বয়স একবছর হওয়া থেকেই। একজন ডেন্টিস্ট আপনার শিশুর দাঁতের ও মাড়ির অবস্থা বুঝে বিশেষ কোন পরামর্শ দিতে পারেন যা আমরা পারবনা।

সুস্থ সুন্দর হোক আপনার শিশুর দাঁত ও মাড়ি

বাচ্চার মুখের গড়ন এবং হাসির সৌন্দর্য নির্ভর করে সুস্থ সবল দাঁত ও মাড়ির ওপরে। এছাড়াও দাঁত ও মাড়ি সুস্থ না হলে আপনার বাচ্চা সারাজীবন নানা সমস্যায় ভুগবে।

অথচ দেখেন, আপনি একটু খেয়াল করলেই কিন্তু আপনার শিশু এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারে।

আপনার সন্তানের সবকিছুই তো আপনিই করে দেন। তাই ওর দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেয়া শুরু করতে হবে আপনাকেই। করবেন তো?

Sharing is caring!

Comments are closed.

error: Content is protected !!