Home শিশুর ত্বক সদ্যজাত শিশুর শরীরের বাড়তি লোম দূর করার অনবদ্য পদ্ধতি

সদ্যজাত শিশুর শরীরের বাড়তি লোম দূর করার অনবদ্য পদ্ধতি

2 second read
0
338

সদ্যজাত শিশুর শরীরে সূক্ষ্ম লোমের উপস্থিতি কোনও অদ্ভুত ব্যাপার নয়, বেশির ভাগ বাচ্চার গায়েই জন্মের সময় এমন চুল বা লোম থাকে আর সামান্য কয়েকটা ব্যাপার খেয়াল রাখলেই এ’গুলো সাধারণত আপনাকে থেকেই ঝরে যায়। এই ছোট ছোট লোমগুলোকে ঝরিয়ে ফেলার জন্য বেশ কিছু ঘরোয়া টোটকা রয়েছে যেগুলো সহজলভ্য। অতিরিক্ত কেমিক্যাল যুক্ত লোশন বা ওষুধপত্র এই সব ঘরোয়া টোটকাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকর। এই সময় শিশুর গায়ের ত্বক অত্যন্ত কোমল আর সংবেদনশীল হয় এবং অল্পেতেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কাজেই কোনও কিছু লাগানোর আগেই সাবধান হওয়াটা আমাদের কর্তব্য। সে কারণেই নীচে দেওয়া রইল এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি যেগুলো ব্যবহার করলে নবজাতকের গা থেকে সূক্ষ্ম লোমগুলো সহজেই ঝরে পড়বে এবং বাচ্চার নরম ত্বকের কোনও ক্ষতিও হবে না।

মুসুররির ডাল আর দুধ

নবজাতক শিশুর গা থেকে এই সূক্ষ্ম লোমগুলো ঝরানোর জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন মুসুরির ডাল। এর জন্যে আপনাকে দু’তিন চামচ মুসুরির ডাল কাঁচা দুধে ভিজিয়ে রাখতে হবে গোটা রাত জুড়ে। তারপর সকাল বেলা এই ভেজানো মুসুরির ডাল ভালো করে পিষে নিয়ে পেস্ট তৈরি করে শিশুর গায়ে মাখিয়ে দিন এবং কিছুক্ষণ পর বাচ্চাকে ভালো ভাবে স্নান করান। আর হ্যাঁ, এই পেস্ট শিশুর গায়ে লাগানোর সময় বেশি জোরে মালিশ করবেন না যেন।

বেসন আর দুধ

নবজাতক শিশুর গায়ের লোম ঝরিয়ে ফেলতে বেসন আর দুধের ব্যবহারও করতে পারেন। এর জন্য বেসনকে কাঁচা দুধে গুলে পেস্ট বানিয়ে শিশুর গায়ে হালকা ভাবে মালিশ করুন। কিছু দিনের মধ্যেই এর উপকার স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

কাঁচা দুধ

দুধ হচ্ছে একধরণের প্রাকৃতিক মশ্চারাইজার যা গায়ের রুক্ষ-ভাব দূর করতে সাহায্য করে। কাজেই শিশুকে স্নান করানোর আগে দুধ দিয়ে নরম হাতে মালিশ করুন আর তারপর ভালো ভাবে স্নান করিয়ে দিন। এ’রকম একটানা কিছুদিন করলেই দেখবেন শিশুর গায়ের এই সূক্ষ্ম লোমগুলো কমে আসছে। খেয়াল রাখা দরকার যে অতিরিক্ত জোর দিয়ে মালিশ করলে নবজাতকের কোমল ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মালিশ করার সময় আপনি দুধের মধ্যে সামান্য হলুদও মিশিয়ে নিতে পারেন।

তেল

তেল সব দিক থেকে শিশুর জন্য উপকারী। শুধু ত্বকের জন্যই নয়, তেল মাংসপেশি আর হাড়কে মজবুত করতেও সাহায্য করে। নবজাতকের গায়ের এই অতিরিক্ত লোম সরানোর জন্যও তেলের মালিশ খুবই কার্যকরী হতে পারে। কাজেই নবজাতক শিশুদের জন্য তেল মালিশ অত্যন্ত উপকারী।

মুলতানি মাটি আর দুধ

জন্মের পর প্রথম কিছুদিন শিশুর গায়ে সাবান না লাগানোই ভালো। সব চেয়ে ভালো হয় যদি এই সময় আপনি মুলতানি মাটি আর দুধ মিশিয়ে শিশুর গায়ে মাখিয়ে হালকা মাসাজ করতে করতে ওকে স্নান করিয়ে দেন। মুলতানি মাটি আর দুধের এই মিক্সচার আপনি শিশুর চুলেও লাগাতে পারেন।

ওপরের ঘরোয়া টোটকাগুলো ব্যবহার করে নবজাতক শিশুর গায়ের বাড়তি লোমগুলো সহজেই ঝরিয়ে ফেলা সম্ভব। সম্ভব হলে ঘরের বড়দের পরামর্শ ও সাহায্য নিন। আর হ্যাঁ, শিশুর গায়ে এমন কিছু কখনই লাগাবেন না যার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কেমিক্যাল।

Source:tinystep

Load More Related Articles
Load More In শিশুর ত্বক
Comments are closed.

Check Also

আপনি কি বাচ্চার জন্যে কাপড়ের ন্যাপি ব্যবহার করেন? সেটির ভালো ও খারাপ উভয় দিক সম্পর্কে জানতে চান?

আপনি কি সেইসব মায়েদের মধ্যে পড়েন যাঁরা কেনা ডাইপার ব্যবহার করতে দ্বিধা বোধ করেন? এখন এ ব্য…