গর্ভাবস্থায় যে সব সংক্রমণ বাচ্চাকে প্রভাবিত করতে পারে

যদিও অনেক সংক্রমণ যেমন সাধারণ সর্দিজ্বর গর্ভাবস্থায় কোন সমস্যা করে না, কিন্তু কিছু কিছু সংক্রমণ বাচ্চার শরীরে যেতে পারে এবং সেগুলো ক্ষতিকারক।  কিছু সংক্রমনের আবার কোন উপসর্গ দেখা যায়না। গর্ভাবস্থায় যেসব সংক্রমণ বাচ্চার উপর প্রভাব ফেলতে পারে সেসব নিয়েই আজকের আলোচনা।

পারটোসিস (হুপিং কফ)

এটি কিভাবে ছড়ায়

সংক্রমিত লোকের সাথে সংস্পর্শ – কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বিন্দু কণা (ড্রপলেট) ছড়িয়ে পড়ে। এই বিন্দু কণাগুলো (ড্রপলেট) বাতাস, ব্যবহৃত রুমালে অথবা রোগীর সংস্পর্শকৃত জায়গায় থাকতে পারে।

উপর্সগ

মধ্যম মানের জ্বর, নাক বন্ধ অথবা নাক দিয়ে পানি পরা, বিষণ্ণতা এবং কাশি। প্রধান বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে কাশির সাথে দীর্ঘশ্বাস যা “হুপিং” শব্দ তৈরী করে।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

এটি বাচ্চার জন্য জীবন-হুমকি কারক সংক্রমণ  হতে পারে। কিছু নবজাতকের কাশি নাও হতে পারে, কিন্তু শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হতে পারে এবং নীলাভ হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু বাচ্চার খাওয়ার সমস্যা থাকতে পারে এবং শ্বাস অথবা কন্ঠ আটকে যেতে পারে।

মা’দের প্রতিটি গর্ভাবস্থার তৃতীয় তিনমাসকালীন সময়ে (২৮ সপ্তাহের কাছাকাছি) পারটোসিস-এর বিরুদ্ধে টিকা নেয়া উচিত কারণ এন্ডিবডিগুলো যা সে এই সময়ে তৈরী করে, তা গর্ভফুলের মাধ্যমে তার বাচ্চার শরীরে যাবে। এটি বাচ্চার টিকা নেয়ার মতো বয়স না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চাকে সুরক্ষা দিবে। আপনার অন্যান্য সন্তানদেরও পারটোসিস-এর বিরুদ্ধে টিকা নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের ৬ সপ্তাহে , ৪ এবং ৬ মাসে টিকা দিতে হয়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু)

এটি কিভাবে ছড়ায়

সংক্রমিত লোকের সাথে সংস্পর্শ – কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বিন্দু কণা (ড্রপলেট) ছড়িয়ে পড়ে। এই বিন্দু কণাগুলো (ড্রপলেট) বাতাস, ব্যবহৃত রুমালে অথবা রোগীর সংস্পর্শকৃত জায়গায় থাকতে পারে।

উপর্সগ

গতানুগতিক লক্ষণগুলো হচ্ছে জ্বর, কাপুনি, কাশি, গলা ব্যাথা, নাক দিয়ে পানি পরা, প্রচন্ড ক্লান্ত অনুভব করা, মাংস পেশীতে ব্যাথা, অস্থিজনিত ব্যাথা এবং <মাথা ব্যাথা।যদি উপসর্গগুলো খারাপের দিকে গড়ায় অথবা আপনি শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, বুক ব্যাথা, দ্বিধাগ্রস্থ, হঠাৎ মাথা ঘুরানো অথবা অনবরত বমি হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন ।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

গর্ভপাত করতে পারে অথবা গর্ভাবস্থায় অন্যান্য সমস্যা যেমন অপরিপক্ক প্রসব করতে পারে। সংক্রমণ  নবজাতকের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে।

ফ্লু হচ্ছে উচ্চ মাত্রায় ছোঁয়াচে শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগ। প্রত্যেক বছর ফ্লুর সময় শুরু হওয়ার পূর্বে টিকা নেয়া গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু প্রত্যেক বছর ফ্লুর শক্তিমত্তার সাথে মিলিয়ে আগত ফ্লুর সময়ের জন্য নতুন টিকা তৈরী করা হয়। এই টিকা সকল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে দেয়া হয় এবং গর্ভাবস্থায় যেকোন সময়ে এবং দুধ পান করানোর সময়ে এটি নিরাপদ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তথাপি, যেসব মহিলার ডিম খেলে চুলকানী অথবা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয় তাদের টিকা নেয়ার আগে বিশেষজ্ঞের উপদেশ নেয়া উচিত।

রোগ প্রতিরোধের টিকা দেয়া হয়েছে এমন মহিলাদের এন্ডিবডি গর্ভফুলে এবং উচ্চ মাত্রায় বাচ্চার শরীরে যেতে পারে যা তাদেরকে জন্মের প্রথম অবস্থায় সুরক্ষা দেয়।

রুবেলা (জার্মান হাম)

কিভাবে ছড়ায়

সংক্রমিত লোকের সাথে সংস্পর্শ – কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বিন্দু কণা (ড্রপলেট) ছড়িয়ে পড়ে। এই বিন্দু কণাগুলো (ড্রপলেট) বাতাস, ব্যবহৃত রুমালে অথবা রোগীর সংস্পর্শকৃত জায়গায় থাকতে পারে।

উপসর্গ

এর অন্তর্ভূক্ত হতে পারে ফ্যাকাশে দাগ, সামান্য জ্বর, নাক দিয়ে পানি পরা, গলা ব্যাথা, ব্যথাসহ গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং বেদনাদায়ক অস্থি সন্ধিতে ব্যাথা।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

গর্ভপাত করতে পারে এবং মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি যেমন বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধীত্ব এবং দেখা, শোনা ও হৃৎপিন্ডে সমস্যা করতে পারে।গর্ভধারণের পূর্বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা করা সবচেয়ে ভালো (যদিও আপনার রোগ প্রতিরোধের টিকা দেয়া হয়ে থাকে)। গর্ভাবস্থার পূর্বেই আপনি রুবেলা প্রতিরোধে সক্ষম হতে পারেন (তবে যদি আপনি গর্ভধারণ করেন তবে সম্ভব নয়)। যদি আপনি কোন রুবেলা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে থাকেন তবে তা আপনার ডাক্তার বা ধাত্রীকে জানান।

জলবসন্ত (ব্যারিসেলা)

কিভাবে ছড়ায়

সংক্রমিত লোকের সাথে সংস্পর্শ – কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বিন্দু কণা (ড্রপলেট) ছড়িয়ে পড়ে। এই বিন্দু কণাগুলো (ড্রপলেট) বাতাস, ব্যবহৃত রুমালে অথবা রোগীর সংস্পর্শকৃত জায়গায় থাকতে পারে।

উপসর্গ

হঠাৎ করে সামান্য জ্বর হওয়া, নাক দিয়ে পানি পরা, শরীর দূর্বল লাগা এবং ত্বকে দাগ যা সামান্য ফোলা থেকে শুরু হয়ে ফোস্কা এবং সর্বশেষ খোস পাচঁড়া হতে পারে।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

জন্মগত ত্রুটির পাশাপাশি নবজাতকদের জলবসন্ত সংক্রমনের কারণ হতে পারে। গর্ভধারণের পূর্বেই আপনি জলবসন্ত প্রতিরোধের টিকা নিতে পারেন (তবে গর্ভধারণ করলে তা সম্ভব নয়)। যদি আপনি কোন জলবসন্তে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে থাকেন তবে তা আপনার ডাক্তার বা ধাত্রীকে জানান।

হেপাটাইটিস্ বি

কিভাবে ছড়ায়

ভাইরাস দ্বারা হয় যা রক্তে এবং শরীরের পানিতে থাকে। যৌন সঙ্গম, ইঞ্জেকশনের সূচ একজনের অধিক মানুষ ব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন শরীরের অঙ্কনের (ট্যাটু) মাধ্যমে আপনার শরীরে ছড়িয়ে পরতে পারে অথবা জন্মের সময় বাচ্চার শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরে।

উপসর্গ

অনেক মানুষ যারা হেপাটাইটিস্ বি বহন করে যাদের কোন উপসর্গ থাকে না, কিন্তু তারপরেও তারা অন্য মানুষের মাঝে রোগ ছড়াতে পারে। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ত্বকে ও চোখে হলুদাভ ভাব (জন্ডিস), গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে পায়খানা, জ্বর, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তিভাব, অস্থি সন্ধিতে ব্যাথা।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

জন্মের সময় সংক্রমণ  বাচ্চার শরীরে যেতে পারে। যদি চিকিৎসা করা না হয়, এটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে যেতে পারে যেমন যকৃতের ক্ষতি অথবা যকৃতের ক্যান্সার।গর্ভাবস্থায় মহিলাদের হেপাটাইটিস্ বি পরীক্ষা করতে দেয়া হয়। অনেক হাসপাতালে জন্মের পর সকল বাচ্চাকে  হেপাটাইটিস্ বি প্রতিরোধক টিকা দেয়া হয়। সাধারণত এটি বাচ্চাকে হেপাটাইটিস্ বি থেকে সুরক্ষা করে। মায়ের হেপাটাইটিস্ বি থাকলেও এটি বাচ্চাকে সংক্রমণ  থেকে সুরক্ষা করে। যদি মায়ের হেপাটাইটিস্ বি থাকে, তবে বাচ্চাকে সুরক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত একটি ইনজেকশান দেয়া হবে।

হেপাটাইটিস্ সি

এটি কিভাবে ছড়ায়

একটি দীর্ঘস্থায়ী যকৃতের রোগ যা রক্তের একটি ভাইরাস দ্বারা হয়। যারা ইনজেকশানের মাধ্যমে ঔষধ নেয় তাদেরকে প্রধানত আক্রান্ত করে। যখন আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তির রক্তে যায়, তখন এটি ধরা পরে। এটি ইঞ্জেকশনের সূচের ভাগ করে ব্যবহার এবং ইনজেকশানের জন্য অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে অথবা অপরিচ্ছনড়ব শারীরিক চিত্রের (ট্যাটু) মাধ্যমে হতে পারে।

উপসর্গ

হেপাটাইটিস্ বি এর মতো।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

গর্ভাবস্থায় অথবা জন্মের সময় সংক্রমণ  মা থেকে বাচ্চার শরীরে যাওয়ার সামান্য ঝুঁকি রয়েছে (প্রতি ১০০ জনে ৫ জন মায়ের বাচ্চা হেপাটাইটিস্ সি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে)। স্তন্যপান করানোর সময় বাচ্চার শরীরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম যদি না রক্তের মাধ্যমে সংস্পর্শ না ঘটে (যেমন আপনার বোটা ফাটা থাকে এবং বাচ্চার মুখের চারপাশে কাটা থাকে)।যদি আপনার হেপাটাইটিস্ সি এর ঝুঁকি থাকে তবে পরীক্ষা করে নেয়া দরকার।

এইচ আই ভি

কিভাবে ছড়ায়

প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোন উপসর্গ থাকে না। আপনার এইচ আই ভি-এর ঝুঁকি থাকতে পারে যদি:

  • আপনার অনিরাপদ যৌন সঙ্গম হয়ে থাকে
  • আপনি অথবা আপনার সঙ্গী সেসব দেশ থেকে আসেন যেসব দেশে এইচ আই ভি প্রচলিত, যেমন কিছু আফ্রিকান এবং এশিয়ার দেশসমূহ
  • ঔষধ ইনজেকশানের মাধ্যমে নেয়ার যন্ত্রাদি ভাগ করে থাকেন

উপসর্গ

ফ্লু-এর মতো সর্বদা বিদ্যমান উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যাথা, গ্রন্থি ফোলা, দাগ থাকতে পারে। এছাড়াও অবর্ণনীয় ডায়েরিয়া, ওজন কমা, বারংবার দাগ অথবা এইডস-এর সাথে সমম্পর্কযুক্ত অসুস্থতা যেমন নিউমোনিয়া, ত্বকের ক্যান্সার, মস্তিষ্কের সংক্রমণ  এবং ছত্রাকের মারাত্মক সংক্রমণ  থাকতে পারে।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

গর্ভাবস্থায় (যদিও ভাবা হয়ে থাকে যে এইভাবে সংক্রমণ  কম হয়), জন্মের সময়, স্তন্যপান করানোর সময় এইচ আই ভি বাচ্চার শরীরে যেতে পারে। মা-থেকে-বাচ্চায় সংক্রমণ  এতোই কম ঝুঁকিপূর্ণ যে, যদি মাকে চিকিৎসা করা হয় তবে তা ১০০ জন বাচ্চায় ২ জনের সংক্রমণ  হতে পারে, কিন্তু যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে ঝুঁকি বাড়ে। বাচ্চাদের জন্মের পরে চিকিৎসা করা হয়। স্তন্যপান করানো বন্ধ করা হয়।

মহিলাদের গর্ভাবস্থায় এইচ আই ভি পরীক্ষা করতে দেয়া হয়। যদি গর্ভাবস্থায় আপনার এইডস্ বা এইচ আই ভি থাকে তবে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং বাচ্চার ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

পারভোভাইরাস যা চ্যাপ্টা গাল রোগ অথবা পঞ্চম রোগ নামেও পরিচিত

কিভাবে ছড়ায়

সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে অন্তরঙ্গ সংস্পর্শ। এটি হাঁচি এবং কাশির থেকে বিন্দু কণার (ড্রপলেট) মাধ্যমে ছড়ায়। প্রধানত স্কুল পূর্ববর্তী শিশুদের এবং স্কুলগামী শিশুদের আক্রমন করে।

উপসর্গ

সাধারণত সামান্য অসুস্থতা হয় যেমন গায়ে জ্বর, লেইস এর মতো দাগ (গালে প্রথম দেখা যায়), মাঝে মাঝে অস্থি সন্ধিতে ব্যাথা।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

গর্ভপাত হতে পারে। বেশীরভাগ বয়স্করা রোগ প্রতিরোধে সক্ষম, কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মী, শিশু যত্নকারী কর্মী এবং শিক্ষকেরা ঝুঁকিতে রয়েছে। স্কুল অথবা প্রি-স্কুলে ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সচেতন থাকুন যদি আপনি তাদের সংস্পর্শে আসেন। যদি রোগাক্রান্ত বাচ্চার সংস্পর্শে এসে থাকেন তবে আপনার ডাক্তার বা ধাত্রীকে বলুন।

সাইটোমেগোলোভাইরাস(সি এম ভি)

কিভাবে ছড়ায়

মানুষে-মানুষে কাছাকাছি সংস্পর্শে লালা, মুত্র এবং শরীরের তরলের মাধ্যমে সংক্রমণ  ছড়ায়। বাচ্চার ন্যাপী এবং ড্রপলেট সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায়।

উপসর্গ

সাধারণত স্বাস্থ্যবান প্রাপ্ত:বয়স্কদের কোন উপসর্গ থাকে না। গ্লান্ডুলার জ্বরের মতো উপসর্গ তৈরী করতে পারে।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

গর্ভাবস্থায় সি এম ভি ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের যকৃত অথবা প্লীহার রোগ, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মানসিক বিকারগ্রস্ততা এবং দৃষ্টি শক্তির সমস্যা হতে পারে।যত্নসহকারে হাত ধোয়া (যেমন বাচ্চা ধরার পর অথবা ন্যাপী ধরার পর) ঝুঁকি কমাতে পারে। যদি আপনি মনে করেন আপনি সি এম ভি আক্রান্ত, তবে আপনি আপনার ডাক্তার বা ধাত্রীকে বলুন।

স্ট্রেপ বি (গ্রুপ বি স্ট্রেপটোকক্কাল সংক্রমণ )

কিভাবে ছড়ায়

ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয় (গ্রুপ বি স্ট্রেপটোকক্কাস)। প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১২-১৫ জন মহিলার যোনীপথে এই ব্যাকটেরিয়া থাকে।

উপসর্গ

মহিলাদের কোন উপসর্গ নাই।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

জন্মের সময় বাচ্চার শরীরে যেতে পারে এবং মারাত্মক সংক্রমণ  করতে পারে। যদি বাচ্চাকে সংক্রমিত করে তবে অ্যান্টিবায়োটিক এবং নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন।  স্ট্রেপ বি প্রতিরোধে দুটি ভিনড়ব পন্থা রয়েছে। বেশীরভাগ হাসপাতালে আপনাকে স্ট্রেপ বি-এর পরীক্ষা করা হবে। যদি আপনি স্ট্রেপ বি বহন করেন তবে প্রসবের সময় আপনাকে এন্ডিবডি দেয়া হবে। অন্যান্য হাসপাতালে, ঝুঁকিপূর্ণ মহিলাদের প্রসবের সময় অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৭ সপ্তাহের পূর্বে প্রসব অথবা উচ্চ তাপমাত্রা।

টক্সোপ্লাসমোসিস

কিভাবে ছড়ায়

সংক্রমণ  প্যারাসাইট দ্বারা হয়, যা সাধারনত বিড়ালের পায়খানায় পাওয়া যায়। কাঁচা মাংস অথবা অপরিপক্ক রান্না করা মাংস খেলেও হতে পারে।

উপসর্গ

লিম্ফ গ্রন্থি ফোলা, মাংস পেশীতে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, জ্বর, সাধারণত অসুস্থবোধ।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

সংক্রমণ  জরায়ুতে যেতে পারে এবং সুপ্তভাবে মারাত্মক সমস্যা যেমন মানসিক বিকারগ্রস্ততা এবং বাচ্চার অন্ধত্ব সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় কোন মহিলা প্রথম বারের মত সংক্রমিত হলেই কেবল সমস্যা হতে পারে। সাবধানতামূলক ব্যবস্থা যেমন কাঁচা মাংস ধরার পর হাত ধোয়া, মাংস পরিপূর্ণভাবে রান্না করা এবং বিড়ালের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা – আবর্জনার ঝুরি ধরবেন না।

সিফিলিস

উপসর্গ

সিফিলিসে সংক্রমিত বেশীরভাগ মহিলার কোন উপসর্গ থাকে না। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে যোনীপথে এবং যোনীপথের চারপাশে ব্যাথামুক্ত প্রদাহ এবং হাতে, পায়ে ও শরীরের অন্যান্য স্থানে দাগ।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

এটি শেষ পর্যায়ে গর্ভপাত করতে পারে। যদি গর্ভাবস্থায় কোন মহিলার সিফিলিস হয়, তা বাচ্চার শরীরে যেতে পারে। এটি বাচ্চার অন্ধত্ব সৃষ্টি করতে পারে।সবাইকে গর্ভাবস্থার শুরুতে রক্ত পরীক্ষা করা দরকার।

ক্ল্যামাইডিয়া

উপসর্গ

অজ্ঞাতসারে মহিলাদের এই রোগ হতে পারে, কিন্তু কিছু উপসর্গ থাকতে পারে যেমন নি:সরণ হওয়া অথবা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করা অথবা যোনীপথে সঙ্গমের সময় পেটের গভীরে ব্যাথা। উপসর্গ ছাড়াও অন্যান্য যেসব কারণে পরীক্ষা করা ভালো তা হলো:

  • ৩০ বছরের নীচে হওয়া
  • গর্ভাবস্থার ৬ মাস পূর্বে আপনার অথবা আপনার সঙ্গীর নতুন যৌনসঙ্গমকারী থাকে
  • যদি আপনার আরেকটি এস টি আই ধরা পরে

যদি চিকিৎসা না করা হয়, ক্ল্যামাইডিয়া জরায়ুর নালী অথবা জরায়ুতে মারাত্মক সংক্রমণ  (পেলভিক ইনফ্লামেটরী রোগ) করতে পারে। এটি জন্মদান সক্ষমতায় প্রভাব তৈরী করতে পারে।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

জন্মের সময় বাচ্চার শরীরে যেতে পারে যা চোখে সংক্রমণ  (কনজাংটিভাইটিস) অথবা নিউমোনিয়া ঘটাতে করতে পারে।

গনোরিয়া

উপসর্গ

প্রস্রাবের সময় যোনীপথের চারপাশে অতিরিক্ত নি:সরণ এবং চুলকাতে পারে; যোনীপথে সঙ্গমের সময় পেটের গভীরে ব্যাথা হতে পারে।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

যদি আপনি সংক্রমিত হোন এবং চিকিৎসা না করেন তবে তা আপনার বাচ্চার শরীরে যেতে পারে এবং চোখে সংক্রমণ  (কনজাংটিভাইটিস) অথবা উর্ধ্ব শ্বাসনালীতে সমস্যা তৈরী করতে পারে।অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা বাচ্চাকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

যৌনাঙ্গের হার্পিস

উপসর্গ

যৌনাঙ্গের জায়গায় ব্যাথাযুক্ত, টনটনে অথবা চুলকানো ফোস্কা। কারো কারো ফ্লুর-মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মাঝে মাঝে কোন উপসর্গ থাকে না।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

যদি আপনার অথবা আপনার কোন সঙ্গীর যৌনাঙ্গের হার্পিস থাকে তবে আপনার ডাক্তার বা ধাত্রীকে তা জানান। যখন আপনার প্রথমবারের মতো ফোস্কার প্রাদুর্ভাব হয় অথবা তা থেকে সেরে উঠেন তখন বাচ্চার শরীরে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী থাকে। গর্ভাবস্থায় আবার প্রাদুর্ভাব আপনার আগত সন্তানের উপর কদাচিৎ প্রভাব ফেলে। কিন্তু প্রসব শুরু হওয়ার সময় যদি আপনার মনে হয় প্রাদুর্ভাব আছে তবে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে যান। বাচ্চার অসুস্থ হওয়া প্রতিরোধ করার জন্য আপনার সিজারিয়ান অপারেশন দরকার হতে পারে। যদি পূর্বে বারংবার প্রাদুর্ভাব ঘটে তবে বাচ্চা যৌনাঙ্গের হার্পিসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন হতে পারে।

ঔষধ হার্পিসের প্রাদুর্ভাব কমাতে পারে এবং উপসর্গ দূর করতে পারে। কিন্তু ভাইরাস যেহেতু শরীরে থেকে যায়, উপসর্গ আবার দেখা দিতে পারে।

যৌনাঙ্গের আঁচিল

উপসর্গ

যৌনাঙ্গের আঁচিল মাঝে মাঝে ব্যাথামুক্ত হয়। যৌনাঙ্গে এগুলো সামান্য ব্যাথামুক্ত ছোট ফোলা থেকে শুরু হয়ে ছোট ফুলকপির মতো চাকা হতে পারে, বিশেষত গর্ভাবস্থায়। কিন্তু মাঝে মাঝে যৌনাঙ্গের আঁচিল মসৃণ হয় এবং এগুলোকে দেখা কষ্টকর।

র্গভাবস্থায় এবং পরর্বতীকালে এর প্রভাব

যদিও গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায়, তবে যৌনাঙ্গের আঁচিল কদাচিৎই সমস্যা করে।আঁচিল দূর করা যায়, কিন্তু ভাইরাস যার মাধ্যমে আঁচিল হয় তা শরীরে থাকে। আঁচিল পুনরায় হতে পারে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Source: fairy land

Sharing is caring!

Comments are closed.